ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জানাজাকে কেন্দ্র করে পুলিশের তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার ও সাতটি গ্রাম হোম কোয়ারেন্টিন

স্টাফ রিপোর্টার: দেশ বরেণ্য ইসলামী আলোচক মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের অংশ নেয়ার ঘটনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন। এরই মাঝে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা, শান্তিনগর, বড়–ইবাড়ি ও সীতাহরণ গ্রাম এবং আশুগঞ্জ উপজেলার বগইর, খড়িয়ালা ও মৈশাইর গ্রামসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনের জন্য মাইকিং করে আদেশ করেছেন দুই উপজেলা প্রশাসন। আগামী ১৪দিন উল্লেখিত গ্রামের কোন মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে সকল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মুসল্লিগণ এসেছেন তাদেরকেও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সরাইলের ইউএনও আবু সালেহ মো. মুসা ও আশুগঞ্জ উপজেলার ইউএনও।

এ ছাড়া স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবকদের দিয়ে কমিটি গঠন করে দেয়া হচ্ছে যেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো তাদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া যায়।
এদিকে মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের অংশ নেওয়ার ঘটনায় সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাসুদ রানা, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন টিটো ও সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল হককেও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার যে সকল গ্রাম থেকে মুসল্লিরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেছে সে সকল গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, জানায় শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অংশগ্রহণ নয়, পাশাপাশি ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকা, হবিগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন অংশ গ্রহণ করেছে। হুজুরের জানাজায় দেশের এমন পরিস্থিতিতে এত মানুষের সমাগম হবে তা কেউই বোঝার উপায় ছিল না। তবে যে সকল এলাকা থেকে লোকজন এসেছে সে সকল এলাকার প্রশাসন কেন বাঁধা দেয়নি এমন মন্তব্য স্থানীয়রা জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন উপেক্ষা করে সামাজিক দূরত্ব বজার না রেখেই লাখো মানুষ যুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় অংশ নেয়। শনিবার সকালে জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জানাজা মাদ্রাসা মাঠ ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে যায়। একদিকে বিশ্বরোড মোড় হয়ে সরাইলের কুট্টাপাড়া মোড় পর্যন্ত অন্যদিকে আশুগঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে লোকজন। এ ছাড়া ওই এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত কিছু পুলিশ ছিল এক প্রকার নীরব দর্শক ছিলেন।

খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি জানাজায় যেন কম লোক হয়। কিন্তু তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় হাজার হাজার লোকের সমাগম হেব তা বুঝতে পারিনি। অধিক লোকের কারণে সংক্রমণ ঝুঁকির কথা আমরা বুঝি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যুবায়ের আহমেদ আনসারী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির এবং বেড়তলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি একাধিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামী আলোচক হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তাঁর বিশ্বজুড়ে।

বর্তমানের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলায় ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন দুইজন। অন্যান্যের তুলনায় এ জেলাকে করোনায় বেশি ঝুঁকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন