আখাউড়ায় স্বপ্নতরীর স্বপ্ন পূরণ

আখাউড়া: সারা দেশে এখন ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের সকল মানুষ গৃহ বন্দী। ধান কাটার লোক পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। এমতাবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছিলেন না। তাই ২০ শতাংশ জমিতে পেকে যাওয়া বোরো ধান নিয়ে ছিলেন বেশ দুশ্চিন্তায়। এরপর নিজেই শুরু করেন ধান কাটার কাজ।

অতঃপর স্বপ্নের মতো আসেন ‘স্বপ্নতরী’। বাস্তবায়ন করে দেন ধান কাটা সমস্যার। ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ার। বুধবার সাত সকালে উপজেলার কুড়িপাইকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের হীরাপুর এলাকার ধান কেটে দেন ‘স্বপ্নতরী’ নামে মানবিক সংগঠনের সদস্যরা

স্বপ্নতরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, করোনায় অনেকেই শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছিলেন না। আমরা দুলাল ভূঁইয়া নামে একজনের তারাগন এলাকার (হেলিপ্যাড মাঠের পাশে) ধান কেটে দেব বলে সিদ্ধান্ত নিই। এরই মধ্যে ‍বুধবার সকালে দেখি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম একা নিজের জমির ধান কাটছেন। এ অবস্থায় সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার কাজ করে দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক সাইফুল ইসলামের ২০ শতাংশ, দুলাল ভূঁইয়ার ৩০ শতাংশ ও জজ মিয়ার তারাগন এলাকার প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ধান কেটে দেন ‘স্বপ্নতরী’র সদস্যরা। সোলেমান ভূইয়া, মনিরুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, শাহীন ভূইয়া, মো. আল-আমিন, সজীব, সুজন, শাহাদাৎ, মুন্না, সামির, ইমাম উদ্দিন, সানি, ওসমান নামে যুবকরা সংগঠনের পোশাক পরে ধান কাটার কাজে অংশ নেন।

কৃষক জজ মিয়া বলেন, জমিটি আমার বর্গা নেয়া। শ্রমিক পাচ্ছিলাম না বলে ধান পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম। আমার বাড়িতে গিয়ে ডেকে এনে তাঁরা ধান কেটে দিয়েছে। আমি খুব খুশি। ধান তো পাবই এ ছাড়া শ্রমিকের জন্য অন্তত যে ছয় হাজার টাকা লাগত সেটা থেকেও বেঁচে গেলাম।

লেখক
বিশ্বজিৎ পাল বাবু

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন