বিজয়নগরের কাঁচাবাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর করা যেতে পারে

বিজয়নগর: নোভেল করোনা ভাইরাসে প্রার্দুভাব দিন দিন বেড়ে চলেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ইতিমধ্যে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্তে সনাক্ত হয়েছে। তারপরই উপজেলার ৫টি গ্রামকে লকডাউন করা হয়। এছাড়াও বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা উপসর্গ থাকাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে প্রশাসন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ লকডাউনকে উপেক্ষা করে হাট বাজারে ভিড় করছেন। কেউ প্রয়োজনে আবার কেউ বা অপ্রয়োজনেও। সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, প্রশাসন আরো কঠোর না হলে সাধারণ মানুষকে ঘর বন্দি করে রাখা সম্ভব হবে না। তাই প্রশাসনিক তৎপরতা আরো বৃদ্ধিকরণের জন্য উপজেলার সচেতন মহলের দাবি উঠেছে। তবে বিজয়নগর উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যে একটি কৃষিবান্ধব উপজেলা।
এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি পণ্য উৎপাদিত হয়। আর সেই কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য কৃষকরা হাট বাজারে নিয়ে আসেন। এ কৃষি পণ্য বেচাকেনার জন্য উপজেলার কাঁচা পণ্য বাজারগুলো ব্যাপক জমজমাট হয়ে উঠে। এতে করে কাঁচাবাজারগুলোতে লোক সমাগম তুলনামূলকভাবে চোখে পড়ার মতো। তাই বাজারগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় থাকার দরুন মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব তেমন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগও রয়েছে। উপজেলার কাঁচাবাজারগুলোকে কাছাকাছি খোলা মাঠে স্থানান্তর করলে সামাজিক নিরাপত্তা দূরত্ব সৃষ্টি হবে। যেহেতু বিজয়নগর উপজেলা একটি গ্রামাঞ্চল এলাকা। সেহেতু খোলা জায়গার কোন অভাব নেই। বিশেষ করে প্রত্যেক বাজার সংলগ্ন খেলার মাঠ, স্কুলের মাঠ ও বিভিন্ন খালি জায়গা রয়েছে। এসব খোলা মাঠে এ কাঁচাবাজারগুলো স্থানান্তর করা যেতে পারে।
উপজেলার বাজারগুলোর মধ্যে- আমতলী বাজার, দেওয়ান বাজার, চম্পকনগর বাজার, সিঙ্গারবিল বাজার, আউলিয়ার বাজার, মেরাসানি বাজার, ইসলামপুর বাজার, চান্দুরা বাজার, সাতবর্গ বাজার অন্যতম। কাঁচাবাজারগুলো খোলা মাঠে স্থানান্তরকরণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও ইতিমধ্যে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান, উপজেলার বড় বড় হাট বাজারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তার দূরত্ব বজায় রেখে খোলা মাঠে স্থানান্তর করা যেতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের লোকজন।
লেখক- এস এম টিপু চৌধুরী সংবাদকর্মী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন