বিতর্কিত রক্ষক যখন নিয়ন্ত্রণহীন

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ব যখন মহামারী করোনাভাইরাসে আতঙ্ক। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে গণজমায়েত এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ঠিক সেই মুহূর্তে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ব্রাহ্মবাড়িয়া জেলার সিভিল সার্জন মো. শাহ আলম ঘনঘটা করে মেয়ের আকত বিয়ে দিয়েছেন।

যদিও এর আগে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল চত্বরে আতশবাজি আর গান বাজনা করে দেশ জুড়ে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছিলেন এই কর্মকর্তা। এইবার নতুন করে আবার বির্তকে পড়েছেন এই সরকারি কর্মকর্তা।

শুক্রবার জেলা শহরের ফারুকী পার্ক সংলগ্ন জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের ডরমেটরিতে থাকা সরকারি বাসভবনে আকত বিয়ের আয়োজন করেন সিভিল সার্জন। বিয়ের আয়োজনে শামিল হয়েছেন জেলার বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসকরাসহ সমাজের নানান শ্রেণি পেশার মানুষজন।

বিয়েতে তিন শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সিভিল সার্জন ঘরোয়া আয়োজন উল্লেখ করে বিয়েতে কোনো জনসমাগম করা হয়নি বলে দাবি করেছেন।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর-চাপুইর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মোল্লার ছেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী মঈনুল হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে সিভিল সার্জনের মেয়ে দন্ত চিকিৎসক শাননিন আলম মমোর বিয়ের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে নামাজের পর শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ফৌজিয়া আক্তার, সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আজহারুর রহমান ও খোকন দেবনাথ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন ক্লিনিকের দন্ত চিকিৎসকদের একটি দল, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সাংবাদিকদের আনাগোনা দেখে বিকেল পৌনে তিনটার দিকে সিভিল সার্জনের সরকারি বাসভবনে প্রধান ফটকটি বন্ধ করে দেয়া হয়। শুধু আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়া বিয়ে বাড়িতে কাউকে আর ঢুকতে দেয়া হয়নি। ফটকের বাইরে সিভিল সার্জন মো. শাহ আলম নিজেই চেয়ার পেতে বসেন।

দুপুরে সরেজমিনে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের ভেতরে ফুল দিয়ে একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। আর বাড়ির ভেতরে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। ভেতরে একটি জায়গায় ১০টি বড় পাত্রে চলছে রান্নার কাজ। খাবারের তালিকায় ছিল ভাত, গরুর মাংস, মুরগি, চিংড়ি, রুই মাছ, জর্দা, কোমল পানীয়, দই, পোলাও প্রভৃতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন অনেকেই বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য জনসমাগম এড়াতে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। এই সময়ে ঘটা করে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তার মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম বলেন, মেয়ের বিয়ের তারিখ অনেকদিন পূর্বেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মেয়ের গায়ে হলুদ ছিল। এখন আমি বাবা হয়ে কীভাবে মেয়ের বিয়ে বন্ধ করে দিই? তিনি আরো জানান, কোনো আয়োজন ছাড়াই স্বল্প পরিসরে বিয়ে হয়েছে। পরিবারের অনেক সদস্যকেও দাওয়াত দিতে পারিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেব। করোনাভাইরাসের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। কেউই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন