ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুদ্রণ শিল্প মালিকরা লকডাউন মানছে না

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা দেশ আজ কোণঠাসা। সবাই একটা অজানা আতঙ্কে জীবন যাপন করছে। কারো সাধ্য নেই বের হবার। দেশের পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ডাক্তার ও সাংবাদিকরা নিরলসভাবে জনগণের সেবায় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
গত ২৫ মার্চ থেকে জেলার সকল দোকান, ব্যবসা বাণিজ্য সব কিছু বন্ধ রয়েছে। এরই মাঝে গত ১১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য এবং ঔষধ ব্যতিত সকল ব্যবসা বাণিজ্য ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখার ঘোষণা হলেও মানছে না মুদ্রণ শিল্প মালিকগণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মসজিদ রোডস্থ আধুনিক অফসেট প্রেস ও তিতাস অফসেট প্রেসের মালিকরা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে তাদের প্রেসগুলো খোলা রাখছে। এর ফলে দেখা যায় কর্মচারি এবং কাস্টমারদের একটা ভিড় লেগেই থাকে।
মুদ্রণ শিল্প কি লকডাউনের আওতামুক্ত এমন প্রশ্ন করা হলে মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি কোর্ট রোডের বর্ণমালা প্রেসের মালিক মো. আরিফ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক শুভেচ্ছা অফসেট প্রেসের মালিক এস. এম আলম জানান, লকডাউনে সকল ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আমরাও আমাদের প্রেসগুলো বন্ধ রেখেছি। যারা খোলা রেখেছে তাদেরকে আমরা বারণ করেছি তবুও তারা কেন খোলা রেখেছে আমাদের জানা নেই। আপনাদের সংগঠন কি তাদের বিরুদ্ধে কোন সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য পুনরায় সচল হওয়ার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।
বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিনকে অবগত করলে তিনি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে মসজিদ রোডের আধুনিক অফসেট প্রেস ও তিতাস অফসেট প্রেসের মালিকদের থানায় নিয়ে যান। সেখানে তারা লকডাউন চলাকালীন সময়ে দোকান খোলা হবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন