ডায়াবেটিস নিয়ে প্রচলিত 6 ভুল ধারণা – ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়

ডায়াবেটিস নিয়ে প্রচলিত 6 ভুল ধারণা – ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়

ডায়াবেটিস বলতে আমরা সাধারণ ভাবে বহুমূত্র রোগকে বুঝি। ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়  এটা নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক ধরনের ভুল ধারণা আছে।

ডায়াবেটিস এর সংজ্ঞাকে ব্যাপক অর্থে বলতে গেলে বোঝায়, প্রাণী দেহ যন্ত্র অগ্নাশয় যদি সঠিকভাবে ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে

বা তৈরিকৃত ইনসুলিন ব্যবহার করতে না পারে তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ”ডায়াবেটিস”।
অন্যভাবে বললে বোঝায় – প্রাণী তথা মানব শরীরে শর্করা বা চিনির অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়াই হলো ডায়াবেটিস।
ডায়াবেটিস যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে দেহের টিস্যুগুলো আস্তে আস্তে বিকল বা অকেজো হতে থাকে।

ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়

এ নিয়ে আমাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যা একেবারেই সঠিক নয়।
এরকম কিছু ভুল ধারণা নিয়ে আজকে আলোচনা করা হলো।

ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়


  • ডায়াবেটিক রোগীদের মিষ্টি খাওয়া সম্পূর্ণ মানাঃ

আসলে এ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। ডায়াবেটিস রোগীদের মিষ্টি খাওয়া উচিত নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ।

শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেই নয় যেকোন মানুষের ক্ষেত্রেই উক্ত কথাটি প্রযোজ্য।

কারণ, অতিরিক্ত মিষ্টি সবার ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত ওজন হলে টাইপ টু ডায়াবেটিস হবেইঃ


এটিও একটি ভ্রান্ত ধারণা। এমন অনেক মানুষ আছে যারা মোটা কিন্তু তাদের ডায়াবেটিস নেই।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে ডায়াবেটিসের জন্য ওজনের সাথে সাথে বংশগতির ব্যাপারও জড়িত থাকে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা কখনোই রক্ত দান করতে পারবেনাঃ

যদি কেউ ইনসুলিন ইঞ্জেকশান নেয় তাহলে শুধু তিনিই রক্তদান করতে পারবেননা।

কিন্তু যাদের  রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক আছে তারা চাইলে অনায়াসেই রক্তদান করতে পারবেন।

ডায়াবেটিস হলে কোন ফলমূল খাওয়া যাবেনাঃ

Bangladesh online newspaper
Fruts


আসলে আপনি কোন খাবার খাবেন আর কোন খাবার খাবেন না, তা সম্পূর্ন নির্ভর করে

উক্ত খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অর্থাৎ খাবার টি কতো দ্রুত রক্তে শর্করা বেড়ে দিতে পারে তার উপর।
আসলে আমরা যেসকল ফল খাই তার অধিকাংশই প্রচুর আঁশ যুক্ত

যার ফলে তা রক্তে ধীরে ধীরে শোষিত হয় তাই এদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও কম হয়।
কিছু কিছু ফলে শর্করার মাত্রা কিছুটা বেশি, ঐ সব ফলও পরিমাণ মতো খাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিক রোগীদের কম পরিশ্রম করতে হবেঃ

যদি আপনি চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী চলেন এবং আপনার শরীরের গ্লূকোজের  মাত্রা ঠিক থাকে,

তাহলে আপনিও আর দশজন সুস্থ মানুষের মতো পরিশ্রম করতে পারবেন।

যদি গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিস থাকে তাহলে সন্তানেরও হবেঃ

 

ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়
যদি গর্ভকালীন সময় মায়ের ডায়াবেটিস থাকে তাহলে শিশু বেশ  কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জন্ম গ্রহণ করতে পারে।
যেমনঃ অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণ করা, গর্ভপাত, নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্ম নেওয়া।
কিন্তু মায়ের ডায়াবেটিস থাকলেই সন্তানও ডায়াবেটিস নিয়েই জন্ম গ্রহণ করবে এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা।
তবে এটা সত্য সন্তান বড় হওয়ার পর অন্যদের তুলনায় তার ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা বেশি থাকবে।

ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হলে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব নয়ঃ

যদি আপনার শরীরে শর্করা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং আপনি সুশৃঙ্খলা বজায় রেখে জীবনযাপন করেন তাহলে

আপনিও আর দশজন সুস্থ মানুষের মত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।
যেমনঃ নিকোল জনসন, হ্যালি বেরি, ল্যারি কিং এর মতো তারকারা ডায়াবেটিস নিয়েই সুস্থ জীবন যাপন করছেন।
একটা কথা সবসময় মনে রাখবেনঃ-

ডায়াবেটিস নিয়েও সুস্থ থাকার তিনটি মন্ত্র হলঃ

শৃঙ্খলা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

আশা করি উপরিক্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের মনের ভুল ধারণা গুলো কিছুটা হলেও ভাঙাতে পেরেছি।

লেখাটি ভাললেগে থাকলে অবশ্যই লেখাটি শেয়ার করবেন।

লেখাটি  Prothomalo এবং Jagonews এর  অবলম্বনে লেখা।

Our more article: তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন | 5 Beauty tips for oily skin in bangla language

Leave a Comment