মাদক ব্যবসায়ী পারভেজের অত্যাচারে দিশেহারা শাহবাজপুর ইউনিয়নবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার শাহবাজপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাস নদীর উপর থাকা ঢাকা-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-সিলেট সড়কের একমাত্র সংযোগ সেতুটি গত ১৫ জুন ২০১৯ আংশিক ভেঙ্গে পড়লে সিলেটের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগ ১৫ জুন থেকে ২২ জুন ২০১৯ পর্যন্ত পুরোপুরি যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। ২৩জুন থেকে আংশিক ১৫ টনের উর্ধ্বে যানবাহন চলাচল সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়। নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা শাহবাজপুরে পারভেজ নামক এক যুবকের দালালীতে ১৫ টনের অধিক ভারী যানবাহনের চালকদের নিকট চাঁদা আদায় করে যাতায়াত করার ব্যবস্থা করে দেয় যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকেরা জানায় শাহবাজপুর গ্রামের মৃত রৌশন মিয়ার ছেলে পারভেজ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পক্ষ হয়ে ট্রাক লড়ি চালকদের নিকট চাঁদা ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত চাঁদার দাবীও অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন পারভেজ নিজেকে শাহবাজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন মাদকের ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাসীসহ নানা রকম অপকর্মে নেত্রিত্ব দিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের মামলা, মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। একটি অডিও রেকর্ডে স্পষ্ট শোনা যায় একজন ট্রাক চালকের নিকট ১০০০০(দশ হাজার) টাকা চাঁদা দাবী করেন।

সে চাঁদা দাবী করার জন্য তিনটি মোবাইল ফোনের নাম্বারে কথা বলেন। নাম্বারগুলো হল ০১৭১১-৪৫৫৯৬০, ০১৯১১-৪২৬০৬০ ও ০১৭১০৭৯৫৮৪১। প্রথম নাম্বারে ফোন করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তৃতীয় নাম্বারে ফোন করে জানা যায় সেটি সেলিম নামে একজন কাঠ ব্যবসায়ীর নামে নিবন্ধিত সিম। তিনি জানান পারভেজ নামক ছেলেটি মাঝে মাঝে তার নাম্বার থেকে নানা জায়গায় ফোন করতে আসে। দ্বিতীয় নাম্বারে ফোন করলে পারভেজ রিসিভ করেন। তাকে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে কথা বল্লে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তবে রেকর্ডের কথা বল্লে তিনি মোবাইল সংযোগকটি কেটে দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন