চুল পরা কমাতে ১৫ টি ঘরোয়া পদ্ধতি | 15 Chul Pora Komanor Tips

চুল পরা কমাতে ১৫ টি ঘরোয়া পদ্ধতি | 15 Chul Pora Komanor Tips

একজন মানুষের মাথায় প্রায় ১০০,০০০ চুল রয়েছে। একজন মানুষের মাথা থেকে যদি প্রতিদিন ৫০-১০০ টা চুল পরে যাওয়া একেবারে স্বাভাবিক ঘটনা। তবে যদি এর থেকে বেশি মাত্রায় পড়ে যায় তাহলে তা চিন্তার কারণ। 

Chul Pora Komanor Tips
Chul Pora Komanor Tips:

অনেক ঘরোয়া উপায় রয়েছে যার দ্বারা মাথার চুল পড়া আটকানো যায়। চুল পড়া কমায় এমন  ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে নিতে বর্ণনা করা হলো:

১. নারকেল কিংবা আমন্ড তেল-

নারকেল তেল

নিয়ম মেনে তেল  দিতে হবে। প্রথমে একটি বাটিতে তেল নিয়ে তা হালকা গরম করে নিতে হবে। এবার চুলের গোড়ায় তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে থাকুন। অল্প সময়েই উপকার পাবেন এবং কয়েকবার ব্যবহার করুন চুল পড়া কমে যাবে।

২.,,পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের রস
Peyajer ros

যাদের শীতের শেষে পাতাঝরা গাছের মতো প্রতিদিনই চুল পড়ছে। আাপনি এটা নিয়ে শুধু চিন্তা করছেন । চুল পড়ার জন্য রাতে ঘুম হচ্ছে না।
চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে গিয়ে চুল পড়ছে আরও বেশি পড়েছে।
পেঁয়াজের রসে আছে প্রচুর পরিমণে সালফার। এটি আাবার মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। এমনকি সালফার আপানার ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

পেঁয়াজের রস থেকে সবচেয়ে ভাল ফল পেতে চাইলে ব্যবহার করুন। ২/৩ টি বড় পেঁয়াজ নিয়ে বেটে রস বের করতে হবে। রস মাথার তালুতে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করে লাগান। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহার করুন। এক, দু মাসের মধ্যে  পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

৩,,,নিম পাতার রস

nim patar ros
নিম পাতার রস

প্রতি সপ্তাহে  একদিন করে নিমপাতা ভালো করে বেটে পেস্টের মত বানিয়ে ১ঘন্টা চুলে লাগিয়ে রাখুন। তারপর  ভালো করে মাথার সমস্ত চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এভাবে নিম পাতার রস লাগালে দেখবেন চুল পড়া আগের থেকে কমে গিয়েছে।
নিমপাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্রতি সপ্তাহে ৩ দিন করে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। 
২০মিনিট পরে ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি কয়েকবার করলে আাপনি  দেখতে পাবেন  চুল আগের চেয়ে  অনেক ঝলমলে ও সুন্দর হয়েছে।
 ৪,,চা পাতার নির্যাস

cha patar nirjos
চা পাতা

লেবুর রসের সাথে চা পাতা মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটা চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে ও থেমে যায়। 


৫,,বীটের রস-

biter ros
বীটের রস

এতে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিকর উপাদান থাকে। আমাদের চুল উঠে যায় পুষ্টির অভাবে। তাই বীটের রস চুল পড়া কমাতে সাহায্য হরে।


৬,,,আমলকি

amloki
আমলকি

চুলের জন্য আমলকি সবচাইতে পুষ্টিকর উপাদান। আমলকি কাঁচা বা তেল হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। 
আমলকিতে ভিটামিন ও খনিজ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। চুল সুন্দর, মজবুত ও চুল ওঠা বন্ধ করে।
কারো যদি চুল পেকে যেয়ে থাকে তাহলে ব্যবহার করুন আমলকির তেল। তাছাড়া চুলের উকুন ও খুকশি কমাতে সাহায্য করে।

৭,,, মধু ও জলপাই তেল

jolpai tel
জলপাই তেল

একটা বাটিয়ে ২ চামচ জলপাই তেল ও ২ চামচ মধু নিন। তারপরের কাজ হলো মধু ও জলপাই ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।এরপর ১ চামচ দারুচিনি দিয়ে ভালোভাবে মিশে নিন।মিশ্রণটি চুল ও ত্বকে মাখিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন।তারপর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।চুল ওঠা ও নতুন চুল গজাতে বেশ কার্যকর ঔষধটি।


৮,,,তামাকের রস


নিয়মিত ব্যবহারের শ্যাম্পুর সাথে কয়েক ফোঁটা তামাকের রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে তা চুল পরা বন্ধ করে দেয়। এটা ব্যবহারে মাথার চুল ঝকঝকে থাকেও চুল পড়া বন্ধ হবে।


৯,,,ডিমের সাদা অংশ ও দধির মিশ্রণ

dimer sada ongso
ডিমের সাদা অংশ

১টি পাত্রে দুইটি ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে নিন এবং এতে দুই চামচ তাজা  ঘোল এক সাথে মিশান।
এটি ভাল করে মেশান এবং এতে এক চামচ নিম পাউডার কিনে  এনে যোগ করুন।

ভালভাবে এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে মাখুন এবং ৩০ মিনিট রেখে দিন।
তারপর ধুয়ে পরিস্কার করে ফেলুন। চুল ঝরে পরা রোধে পদ্ধতিটি প্রতি সপ্তাহে একবার অনুসরণ করুন।অবশ্যই চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।


১০,,,অ্যালো ভেরা

alovera
অ্যালো ভেরা

আ্যালো ভেরা চুল বূদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকি পালন করে থাকে। যদি চুল পড়ে যায় তাও মাথা ফাঁকা হয়ে যায় না।
যেভাবে ব্যবহার করতে হবে প্রাকৃতিক উপাদানটিকে।পরিমাণ মতো অ্যালো ভেরা জেল নিয়ে স্কাস্পে লাগান। ১ ঘন্টা অপেক্ষা করে হালকা গরম জলে ভাল করে মাথাটা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩-৪ বার অ্যালো বেরা জেল মাথায় লাগান দারুন উপকার হবে ।

Video


১১,,,ঘৃত কুমারীর জেল

ghrito kumari
ঘৃত কুমারী

চুল পড়া  ঘৃত কুমারীর রস অত্যন্ত কার্যকরী  এবং এটি মাথার ত্বকে পুষ্টি যুগিয়ে থাকে। খাটি ঘৃত কুমারী সরাসরি  মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। ঘৃত কুমারীর পাতা অর্ধেক করে কেটে এর মধ্যে থাকা রসালো প্রোটিন মাথার ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে। 
মাথার ত্বকের শুষ্কতা এবং চুলকানির কারণে চুল ঝরে পড়া কমায়। ঘৃত কুমারীর রস  মাথার ত্বকে প্রয়োগ করে ভাল করে ম্যাসেজ করুন করতে হবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন।আপনার চুল পড়া বন্ধ হবে।


১২,,,লাইম বীজ

lime tree
লাইম গাছ

শুকনা লাইম বীজ চূর্ণ করে নিতে হবে এবং তার সাথে তাজা গোল মরিচের গুঁড়া মিশাতে হবে।অল্প পানি দিয়ে ভালো করে মিশাতে হবে।
 যেখানে বেশি চুল পড়ে যেখানে লেগে দিন।আাপনার চুল পড়া বন্ধ হবে ও সেখানে চুল গজাবে। সপ্তাহে ১ বার ব্যবহার করুন


১৩,,,,মেহেদি পাতা

mehedi pata
মেহেদি পাতা

মেহেদি পাতা ব্যবহার করে চুল পড়া কমানো সম্ভম। যেভাবে মেহেদি পাতা ব্যবহার করতে হবে তা হলো:
১ম এ ২৫০ মিলি সরিষার তেল নিতে হবে একটি টিনের কৌঁটায়। তারপর  ৬০ গ্রাম মেহেদি পাতা  দিয়ে চুলার জ্বাল দিন যতক্ষন না পাতাগুলো গলে যায়। 
মিশ্রণটি একটি মসলিনের কাপড়ে ছেকে নিগে হবে এবং শুধু তেলটি রাখতে হবে। এই তেল নিয়মিত মাথার ত্বকে ও চুলে লাগাবেন। নিয়মিত ব্যবহারে আাপনি দেখতে পাবেন যে চুল পড়া বন্ধ হয়ে গেছে।
এক কাপ শুকনো মেহেদি পাতার গুড়ার সাথে আঁঁধা কাপ দই মিশিয়ে নিন ভালো করে। মিশ্রণটি চুলে লাগান এবং যতক্ষণে চুল না শুকিয়ে যায় অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।


১৪,,,,গ্রীন টি

green tea
গ্রীন টি

গ্রীন টি শুধু খাওয়ার জন্যই নয়। এটি  চুলের জন্যও খুব উপকারী কারণ এতে প্রচূড় পরিমাণে আন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। 
কুসুম গরম গ্রীন টি মাথার ত্বকে এক ঘন্টা লাগিয়ে রেখে দিন, তারপর সাবান দিয়ে ভালোভাবে  ধুয়ে ফেলুন। চুলের বৃদ্ধির জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন ও চুল পড়া কমাবে।

১৫. সানা বীজ

Chana Bij

নারিকেল তেল সাথে সানা বীজ মিশিয়ে কুসুম গরম করে এটি তৈরি করতে হবে। এটি আপনার মাথার ত্বকে ম্যাসেজ করে দিতে হবে । 
এটা ৩০ মিনিট মাথায় রাখুন তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ২ বার এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।


আমাদের আরো পোষ্টগুলো দেখুনঃ

Leave a Comment