সিরাজগঞ্জ কাজিপুরের প্রায় 200 বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ইন্দিরার সন্ধান | Kazipur Sirajganj

সিরাজগঞ্জ কাজিপুরের প্রায় 200 বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ইন্দিরার সন্ধান | Kazipur Sirajganj

সিরাজগঞ্জ কাজিপুরের (Kazipur Sirajganj) প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ইন্দিরার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।।

Kazipur Sirajganj উক্ত ইন্দিরা সম্পর্কে স্মৃতিচারণঃ

তথ্যঃ শ্রদ্ধেয় Masudul Islam
স্থানঃ গান্ধাইল, কাজিপুর

এ যেন, দেখিতে গিয়েছি পর্বত মালা, দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু, দেখা হয় নি চক্ষু মেলিয়া একটি ঘাসের শিশির উপর একটি শিশির বিন্দু…

গান্ধাইল সাহা পাড়া। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া একটি পুরাতন ইন্দিরা। এটা গান্ধাইল সাহা পাড়া মনিন্দ্রনাথ সাহা দাদুর আখড়া বাড়িতে অবস্থিত।
সিরাজগঞ্জের খবর, আজকের সিরাজগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ জেলার ইতিহাস Kazipur Sirajganj
Indira | Photo by: সোহেল রানা
 প্রতিষ্ঠা করেন মৃত মনি বাবু দাদার পিতা মৃত প্রশুন্ননাথ সাহা। ইন্দিরাটা আগে ব্যবহার উপযোগী ছিল। কিন্তু কালের প্রবাহে আধুনিক যুগে কেউ আর কূপের বা ইন্দিরার পানি ব্যবহার করে না।
ফলে বর্তমানে পরিত্যক্ত। আগে আমরা ঐ ইন্দিরার পাশে বড় উঠানে বল খেলতাম। বল প্রায়ই ঐ কুপে পরে যেত। কুপের ভিতর লোহার বালা দিয়ে সাটানো আছে। ফলে উঠানামা করতে পারতাম।
আর ঐ আখড়া বাড়ির পশ্চিমে একটা ঘর ছিল। ঐ ঘরের বারান্দায় ঘোরাঞ্চাতে বসে মনি বাবু দাদা আমাদের খেলার রেফারিগিরি করতেন। সেই ৭০/৮০ দশকের গোরার কথা বললাম। কুপের ভিতর গজাল মাছ আর মাগুর মাছের জলকেলিও দেখতাম আমরা।
যাই হোক ইন্দিরাটির গায়ে এপিটাফ ছিল। তাতে লেখা ছিল বাবু প্রসন্ননাথ সাহা। প্রতিষ্ঠাকাল আনুমানিক ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ। তখন ব্রিটিশের আমল। আসলে চাকুরির সুবাদে আর গ্রামে থাকা হয় না। যারফলে প্রাচীন এই এতিহ‌্যবাহী ইন্দিরাটা সংরক্ষণের জন‌্য কাউকে সৎ পরামর্শও দেওয়া হয় না।
Indira – Photo by: সোহেল রানা
ভিন্ন সম্প্রদায়ের হলেও বাবু মনি সাহা দাদু অত‌্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। জমিদার মানুষ হলেও সাধারণ মানুষের সাথে মিশতেন। মানুষকে ভালো পরামর্শ দিতেন। আশেপাশের গ্রামের কৃষকরা দুধ দেওয়া গাভী বাছুরসহ মনি বাবু দাদুর কাছে নিয়ে আসতেন। কারণ গাভীর ওলান ফুলে যখন ঢোল হয়ে যেত।
কৃষকটি দুধ দোহন করতে পারতো না। গ্রামের সাধারণ মানুষ বলাবলি করতো যে কোন অসাধু ব‌্যক্তি হয়তো গাভীর ওলান তাবিজ-কবজ কিংবা (বান) মেরে বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলাম তারা বিশ্বাস করতাম না। যাই হোক সেই ভুক্তভোগী কৃষক যখন বাছুরসহ গাভী নিয়ে আসতেন মনি বাবু দাদুর কাছে। তিনি ঝাঁড়-ফুঁক করে বালতি নিয়ে চ‌্যাউ-চ‌্যুঁ; চ‌্যাউ-চ‌্যুঁ করে দুধ দহন করে দিতেন।
 এগুলো কোন শোনা কথা নয়। আমাদের নিজের চোখে দেখা ঘটনা। আবার কোন পুরুষ মানুষের অন্ডকোষ ফুলে গেলে যাকে (একশিরা) রোগ বলে। মনি বাবু দাদু পানি পড়া দিতেন। সেই পানি পান করে সে লোকও ভালো হয়ে যেতো।

Leave a Comment