মহাসড়ক এড়িয়ে কক্সবাজার থেকে অভিনব কৌশলে ইয়াবা আনতেন তাঁরা

27

কক্সবাজার থেকে দূরপাল্লার গাড়িতে না উঠে বেদের ছদ্মবেশ নিয়ে ঢাকায় ইয়াবা পাচার করে আসছিলেন পাঁচ তরুণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পথে পথে তাঁরা বিভিন্ন পণ্য যেমন চুড়ি, কড়ি, চুল বাঁধার ফিতা, শিশুদের কোমরে বাঁধার ঘণ্টা, চেইন, সেফটিপিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করতেন।

তাঁরা হলেন তারিকুল ইসলাম (২৩), সিনবাদ (২৩), মো. মিম মিয়া (২২), মো. ইমন (১৯) ও মো. মনির (২৮)। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুরের বছিলা ব্রিজের কাছে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন তাঁরা।

র‍্যাব-২-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরান উল্লাহ সরকার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে এই মাদক কারবারিরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করতেন। তাঁরা টিনের চুলায় বিশেষ কায়দায় ইয়াবা রেখে তা ঝালাই করে নিতেন। এরপর কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসার সময় মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পো ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিতেন।

চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তাচৌকি এড়াতে প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসতেন। সেখান থেকে তাঁরা নোয়াখালীর-চৌমুহনী-সোনাইমুড়ি ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসতেন। দ্বিতীয় ধাপে সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা দিয়ে ঢাকায় ঢুকতেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলেন, এর আগে মাদক কারবারিদের এমন কৌশল তাঁদের নজরে আসেনি। তাঁরা যে রাস্তা ব্যবহার করছেন, তা–ও একেবারে নতুন। তারপর আবার এ চক্রে একজন গাইড বা লাইনম্যান রয়েছেন। নিরাপত্তার বিষয়টি তিনি সামলাতেন। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন