ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলছে খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মান

47
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বাধা প্রধান করলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।
বুধবার (৫ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বরিশল মধ্য পশ্চিম পাড়ায় “হাজী মোঃ বাবরু চৌধুরী হাফিজিয়া ফোরকানিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা”র সাথেই সরকারি খালটি ভরাট করে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। যদিও এখানে একটি ব্রীজ রয়েছে, সেটির দুই ধারে মাটি না ফেলায় ব্রীজটি ব্যবহার করা যাচ্ছেনা। এই এলাকার বাবরু চৌধুরীর ছেলে কমল চৌধুরী ও তার কিছু অনুসারী খাল ভরাটের এই কাজটি করছেন, এমনটিই অভিযোগ করেছেন বরিশল গ্রামের বাসিন্দা ও বাসুদেব ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার সরুফা বেগম। তিনি বলেন, বাবরু চৌধুরী, কমল চৌধুরী ও কুদ্দুস চৌধুরীর জায়গা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আলাদা করে মেপে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে ৮টি শালিস হয়েছে। ৪ বার আমিন দিয়ে মেপে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারি খালের ভিতর তারা পিলার নির্মান করেছে। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমার উপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়েছে। এখন এলাকার স্থানীয় কয়েকজন সর্দার সাথে নিয়ে আমার উপর আরো অত্যাচার করছে তারা। খালের মধ্যে যেই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে সেটি পানি নিষ্কাশনের জন্য সরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তারা আবার এটি তৈরি করছে।
নামজুল হাসান পলাশ নামে গ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন,গত শনিবার বিকেলে আমি এখানে এসে দেখি প্রচুর মানুষ ভীর করে আছে। দেখলাম এখানে মানুষ খাল ভরাটের রাস্তাটির মাটি কুপিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। তখন বাবরু চৌধুরীর পক্ষের লোকেরা বলে যে, এখানে যদি একটা কুপ পরে তাহলে এখানে দুইটা অথবা তিনটা লাশ পড়বে। এখানে রক্তের বন্যা বইবে।
এবিষয়ে বাবরু চৌধুরীর ছেলে কমল চৌধুরী বলেন, এখানে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা আছে,তাছাড়া কিছু বাড়িঘরও আছে। তাই সবার যাতায়াতের জন্য খাল ভরাট করে রাস্তা বানিয়েছি। তবে এটি অস্থায়ী। ইদের পর সবাই বসে পরামর্শ করে যদি ব্রীজটিকে যাতায়াত উপযোগী করা যায় তাহলে এই রাস্তাটি সরিয়ে ফেলা হবে। তিনি আরো জানান, এলাকাবাসীর সম্মাতিক্রমেই খাল ভরাট করে রাস্তা বানাচ্ছেন তিনি। একক নয়, বরং সবার সুবিধার্থে খাল ভরাট করা হয়েছে। আর মহিলা মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কারন তিনি আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দেয়।
এবিষয়ে বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবাশ্বের আলম ভূইয়া বলেন, এখানে কি হয়েছে তা আমি জানিনা, কারন কোন পক্ষই আমাকে কিছু জানায়নি। তবে যেহেতু এটি সরকারি খাল তাই আমি খোজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো। আর যদি খালটিকে রাস্তা বাননোর খুবই প্রয়োজন হয় তাহলে ভূমি অফিস কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে যা করার করবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন