সুহিলপুর ইউনিয়নের প্রধান খালটির করুণ পরিণতি

55

তিতাসের দুই পাড়েই যে ইউনিয়নটি অবস্থিত সেটি হল সুহিলপুর ইউনিয়ন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাল হচ্ছে ৩নং গ্যাস ফিল্ড এর রাস্তার পাশ দিয়ে বহমান খালটি হাইওয়ে রাস্তার পশ্চিম অংশে কাঙ্গালী রোডের পাশ হয়ে হিন্দুপাড়ার ভীতর দিয়ে চলে গেছে কেন্দুবাড়ী পর্যন্ত।

বর্তমানে খালের শুরুটা কালুসর্দারের বাড়ীর এখান থেকে এর দৃশ্যমান অস্তিত্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই খালটি আরও পশ্চিমে থেকে এর উৎপত্তি। যেখান থেকে খালটির উৎপত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে তা ও এটি খাল বলা যাবে যাবে না ড্রেনের মত করে খালটি ধরে পূর্ব দিকে এগুলে লক্ষ্য করা যায় দখলের ফলে ইউনিয়নের প্রধান খালটি বিলুপ্তি হওয়ার পথে! এলাকাবাসীরর সাথে কথা বলে জানা যায় খালটি আরও চওড়া ছিল। বর্ষা মওসুমে তিতাস নদীর সাথে সংযোগ থাকায় এলাকাবাসী মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত।

এই খালটিতে এক সময় তিতাস নদী হইতে নৌকা পাড়া মহল্লার ভীতরে চলে আসতো।

সরেজমিনে দেখা যায় সামসু খাঁনের বাড়ীর সামনে হইতে খালটি আরেক শাখা উত্তর দিকে গিয়ে বীর প্রতিক মেজর (অবঃ) জহিরুল হক খাঁন রোডের পাশ ঘেঁষে তারু মিয়ার দোকানের সামনে ছোট একটি কালভার্ট ( যদিও কালভার্ট এর অস্তিস্থ্য খুজে পাওয়া যাবে না) হয়ে তারা পুকুরের পশ্চিম কুল ঘেঁষে ছাতিয়ানের ধান চাষের মাঠে মিলিত হয়েছিল বৃষ্টি মওসুম এ যখন অতি বৃষ্টি হয় তখন ছাতিয়ানের এবং তেলিনগর এর ফসলি মাঠের পানি ও কেন্দুবাড়ী, হিন্দুপাড়ার ফসলি মাঠ ও মহল্লার অতি বৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এই খালটি। কিন্তু দুঃখের বিষয় খালটি আজ কিছু কিছু জায়গায় দখলের কবলে পড়ে এতটাই সরু হয়েছে এক সময় তা বিলুপ্ত হওয়া আশংকা করেছেন এলাকাবাসী।

কিছুদিন পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে “পি আই ও” এর অর্থায়নে খালটির খননের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। যার দায়িত্ব পালন করেছিলেন ১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জনাব বাবুল মিয়া ও ১ ২ ৩ সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা মেম্বারের স্বামী মিন্টু দত্ত।

তাদেরকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল খালটির উৎপত্তি কোথায় হইতে বা খালটির চওড়া কতটুকু বা কতটুকু গবীরতা বজায় রেখে খাল খননের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন? তারা জানিয়েছেন, উৎপত্তি কোথায় থেকে তা আমরা বলতে পারবো না, দুই পাশের সীমানাও আমরা জানিনা। সামনে বৃষ্টির মওসুম হওয়ার কৃষকদের আবেদনে ছোট একটি প্রকল্পের মাধ্যমে আপাতত এ কাজটুকু করা হচ্ছে যাতে করে বৃষ্টির পানিতে ফসল গুলো নষ্ট না হয়।

ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হবেন। খালটির যতই সামনে যাবেন আপনি অবাক হবেন দেখে কিভাবে খালটি দখল করে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলছি আমরা। আমরা জনপ্রতিনিধি হওয়ায় জোর করে কাউকে কিছু বলতেও পারছি।

আপনাদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি খালটির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে দখল মুক্ত করে খালটিকে বাঁচান। নয়তো ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্র এলাকা মারাত্মক সমস্যায় পড়বে। কৃষি কাজেও ব্যাঘাত ঘঠবে।

তাদের কথা মত আরেকটু সামনে গেলে দেখা যায়, মরহুম লাল মিয়া সাহেবের বাড়ীর ওখানে নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মান হচ্ছে।

স্পষ্ট-ই দেখা যাচ্ছে তাদের সীমানা বাউন্ডারী খালের ভীতরে চলে আসছে। ভবন মালিকরা প্রবাসী হওয়ায় তাদের সাথে কথা বলা যায়নি এবং দায়িত্ববান কাউকে পাওয়া যানি। মরহুম লাল মিয়া সাহেবের বাড়ীর গেইটের সামনে ছোট একটি কালভার্ট হয়ে খাল ধরে সামনে এগুলেই দেখা যায় একটি বাথরুমের টাংকি খালের ভীতরে। এ ব্যাপারে বাড়ী মালিক হাকিম মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি আমাদেরকে জানান, ময়লার টাংকি খালের ভীতরে কি না তার জানা নেই। এটি তৈরী করার সময় বিষয়টি এত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। আরেকটু সামনে গিয়ে মরহুম বাহার মোল্লার বাড়ীর সামনে দিয়ে খালটির আরেকটি শাখা মরহুম শহীদ খাঁনের বাড়ীর সামনে দিয়ে মহল্লার ভীতরে প্রবেশ করেছে।

মেইন খালটি ধরে সামনে এগিয়ে দেখা যায় কুমিল্ল- সিলেট হাইওয়ে রোড। এই রোডে খালটির উপর একটি কালভার্ট ব্রীজ অবস্থিত।

ইন্ডিয়ান চার লেন এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মান কাজ চলায় এখানে একটি অস্থায়ী বাঁধ তৈরী হয়েছে। গতকাল সামন্য বৃষ্টি হওয়ায় ফলে এখানে এই খালটির পানি নিষ্কাষন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম জানায়, আর এক ফুট পানি হলেই খালটি ভরে কৃষি জমিগুলো ডুবে যাবে।

উন্নয়নেরও দরকার আছে। আগে কৃষক বাঁচতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশ বাঁচলে দেশের উন্নয়ন হবেই। উপস্থিত সকল কৃষক আশংকায় আছেন আর যদি কয়েক ঘন্টা বৃষ্টি হয় পানির তলে তলিয়ে যাবে ঘাম জড়ানো কষ্টের এই কৃষি জমিগুলো।

এ ব্যাপারে উক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের এসিসট্যান্ট চীফ ইন্জিনিয়ার জনাব শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, আপাতত এখানে কাজ করা হচ্ছে না তাই এই বাঁধটি আমরা খুলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিব।

পরিশেষে এলাকাবাসীর একটি ই দাবী জানিয়েছেন, খালটির সীমানা নির্ধারণ করে দখলের হাত থেকে মুক্ত করে খালটি খনন করা হউক।

এই খালটির ২য় খন্ডের এসাইনমেন্ট তৈরী হচ্ছে আরও ভয়াবহ অবস্থা ফুটে উঠবে।

 

 

প্রতিনিধি: কামরুজ্জামান খান টিটু, সদস্য, নেঙর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন